ইসরাইল-হামাস যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথমবারের মতো গাজায় শত শত শিক্ষার্থী অনলাইনে মাধ্যমিকের চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। চলমান সংঘাত ও ধ্বংসের মধ্যে এই পরীক্ষা হয়ে উঠেছে শিক্ষার্থীদের জন্য ভবিষ্যতের পথে এক আশার আলো।

গাজার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে পরীক্ষাগুলো অনলাইনে নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ সফটওয়্যারের মাধ্যমে নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি নিশ্চিত করে পরীক্ষাটি আয়োজন করা হয়। এতে প্রায় ১,৫০০ শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। কেউ কেউ নিজ ঘর থেকে, কেউবা নিরাপদ আশ্রয়ে গঠিত কেন্দ্রগুলোতে বসে অংশ নিচ্ছেন—ইসরাইলি বোমাবর্ষণের মধ্যে যেখানেই বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট মেলে।

‘যুদ্ধ থামাতে পারেনি আমাদের স্বপ্ন’

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পরীক্ষা শুধু উচ্চশিক্ষায় প্রবেশের জন্য নয়, বরং বৃত্তি এবং বন্দী জীবন ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার এক বড় সুযোগ। যুদ্ধ, ধ্বংস ও অনিশ্চয়তার মধ্যেও গাজার শিক্ষার্থীরা বলছেন—তাদের ভবিষ্যৎ থেমে নেই।

আল জাজিরার সাংবাদিক তারেক আবু আজজুম বলেন, “বই-খাতা ছাড়া, সীমিত ইন্টারনেট সংযোগে, এমনকি শ্রেণিকক্ষ ধ্বংস হওয়া অবস্থায়ও শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। তারা যুদ্ধকে তাদের ভবিষ্যৎ কেড়ে নিতে দিচ্ছে না।”

গাজার কেন্দ্রীয় গভর্নরেটের পরীক্ষাসংক্রান্ত পরিচালক মোরাদ আল-আগা জানান, শিক্ষার্থীরা একটি নির্দিষ্ট অ্যাপ ব্যবহার করে পরীক্ষা দিচ্ছে। তবে বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সমস্যার কারণে শিক্ষার্থীদের অনেকে ক্যাফে, তাঁবু বা আশ্রয়কেন্দ্রে বসে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন।

ডিজিটাল পদ্ধতির এই পরীক্ষার আগে একটি মক টেস্ট নেওয়া হয়, যাতে শিক্ষার্থীরা প্রস্তুতির পাশাপাশি প্ল্যাটফর্মের কার্যকারিতা যাচাই করতে পারে। কিন্তু বাস্তবতা বলছে, গাজায় ডিজিটাল পরীক্ষা নেওয়া খুবই কঠিন।

শিক্ষার্থী দোহা খাত্তাব বলেন, “আমাদের বইগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে, ইন্টারনেট দুর্বল, কারও কারও কাছে ডিভাইসই নেই। তবু চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”

শিক্ষিকা ইনাম আবু স্লিসা জানান, শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্তি কাটাতে শিক্ষকরা ক্ষতিগ্রস্ত স্কুল খুলে আবারও গাইড করছেন, ধাপে ধাপে সাহায্য করছেন।

জাতিসংঘ বলছে, গাজায় ৯৫ শতাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বা ধ্বংস হয়ে গেছে। প্রায় ৬ লাখ ৬০ হাজার শিশু আর স্কুলে যেতে পারছে না। জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল বলছে, ইসরাইলের পরিকল্পিত হামলায় শিক্ষা অবকাঠামোর ধ্বংস যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

এমন বাস্তবতায় অনলাইন মাধ্যমিক পরীক্ষা গাজায় শিক্ষার্থীদের কাছে শুধু একটি একাডেমিক ধাপ নয়, বরং যুদ্ধকে প্রত্যাখ্যান করে জীবন গড়ার প্রতীক হয়ে উঠেছে। সূত্র: আল জাজিরা, জাতিসংঘ